শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় নিখোজের ২৩ দিন পর একটি পুরাতন কবর থেকে মন্টু বেপারী ওরফে মনু বেপারী (৬০) নামে এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করেছে তার স্বজন ও স্থানীয়রা। নিহত ব্যাক্তির শরীরে গামছা ও বিছানার চাদর পেচানো ছিল। নিখোজের ২০ দিন পর পালং মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন নিখোজের বোন মিনারা বেগম। নিহত পরিবার ও স্থানীয়দের দাবী নিখোজ হওয়ার পর থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ বিষয়টি তেমন আমলে নেয়নি।সোমবার (২০ এপ্রিল) শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর চটাং এলাকার স্থানীয় হাসেম মাদবরের কবরের ভিতর তার লাশ দেখা যায় । নিহত মন্টু বেপারী ওরফে মনু বেপারী চরচটাং গ্রামের মৃত সোনাই বেপারীর ছেলে।নিহতের ভাতিজা রবিন বেপারী ও পালং মডেল থানা সুত্রে জানা যায়, গত ৫ বছর পূর্বে মন্টু বেপারী ওরফে মনু বেপারীর প্রথম স্ত্রী মারা যায়। পরে সে একই এলাকার মৃত সিরাজ মোল্লার স্ত্রী রুদ্রকর ইউনিয়নের হাসেম খানের মেয়ে খাদিজা বেগম কে বিয়ে করে। গত ১ বছর যাবত তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৬ মাস পূর্বে মনু বেপারীর স্ত্রী খাদিজা বেগম তাকে ডির্বোস দেয়। তার পর মনু বেপারীর কাছ থেকে নেওয়া ৭ লাখ টাকা দাবী করে মনু বেপারী তার স্ত্রী বিরোদ্ধে শরীয়তপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পর থেকে মনু বেপারী ও তার স্ত্রী মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ঝাটি লেগেই থাকতো। তার জের ধরে গত ২৭ মার্চ মনু বেপারী নিখোজ হয়। নিখোজের ২০ দিন পর তার বোন মিনারা বেগম বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে।
পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিয়টি তদন্তের জন্য আংগারিয়া পুলিশ ফাড়ির এস আই সুধাংশু কে তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়। রোববার পুলিশ এলাকায় গেলেও তেমন কোন দায়িত্ব পালন করেনি বলে এলাকাবাসীর দাবী। সোমবার নিখোজের স্বজন ও স্থানীয়রা বার বার পুলিশ কে ফোন করলেও তারা আসেনি । পরে তারা বাড়ীর আস পাশে খুজা খুজি করে। পরে বাড়ীর পাশের ৩/৪ বছর আগে মারা যাওয়া হাসেম মাদবরের কবরের এক পাশের নতুন মাটি দেখতে পায়। সেখানে তারা মাটি খুড়ে মনু বেপারীর গামছা ও চাদর মোড়ানে লাশ দেখতে পায়। পরে পালং মডেল থানা পুলিশ কে খবর দেয়। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদস্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরন করেছে।নিহতের মেয়ে মিম আক্তার বলেন , আমার মা মারা যাওয়ার পর একই এলাকার মৃত সিরাজ মোল্লার স্ত্রী কে আমার বাবা গরু বাছুর জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা দিয়ে বিয়ে করে। বিয়ে পর সে মহিলা আমার বাবা কে ডিবোর্স দেয়। আমার বাবা সে ৭ সাত লাখ টাকার জন্য সে মহিলার নামে শরীয়তপুর আদালতে মামলা করেন। সে জন্যই তার আগের ঘরের ছেলে ফারুক মোল্লা ও তার লোকজন নিয়ে অমার বাবাকে হত্যা করে আরেক জনের কবরের ভিতরে লাশ লুকিয়ে রাখে।নিহতের বোন মিনারা বেগম বলেন, আমার ভাই সুখের আশায় জায়গা জমি বিক্রি করে বিয়ে করেছিল। কিন্ত তার খারাপ চরিত্রের স্ত্রীর কারনে সে বাচতে পারলো না । আমি এ হত্যা কান্ডের বিচার চাই। আংগারিয়া পুলিশ ফাড়ির এস আই সুধাশু বলেন, আমি বিষয়টি গত কাল থেকে তদন্ত শুরু করেছি। আজ লোকজন লাশ দেখে আমাদের খবর দিলে আমরা তার লাশ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি।