খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ২নং শ্রীফলতলা ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের দিনমজুর ও ভ্যান চালক মো: আব্দুল্লাহ হাওলাদারের একমাত্র সম্বল গাভি গরুটি চুরি করে জবাই করে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এতে একদিকে যেমন একটি দরিদ্র পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো: আব্দুল্লাহ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে ৫ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে কোনোরকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। তার সীমিত আয়ের পাশাপাশি পরিবারের বাড়তি খরচ মেটানোর জন্য গরু পালন করেছে । একমাত্র অবলম্বন ছিল একটি গাভি গরু। সেই গরুর দুধ বিক্রি করেই তিনি সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের কিছুটা জোগান দিতেন।
গত বুধবার হঠাৎ করেই গাভিটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও গরুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। এতে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। অবশেষে গতকাল ১৭ ই এপ্রি স্থানীয়রা একটি পরিত্যক্ত ও বন্ধ ভাটার ঘরের ভেতরে গরুটিকে জবাই করা অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়রা ভুক্তভোগী পরিবারকে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান আব্দুল্লাহ হাওলাদার। সেখানে গিয়ে নিজের গরুটিকে শনাক্ত করলে তিনি কান্না করে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এটিকে অমানবিক ও নৃশংস কাজ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
এলাকার সাধারণ জনগণ বলছে এ ধরনের ঘটনা যদি দ্রুত দমন করা না হয়, তবে গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যেতে পারে। এদিকে এলাকাবাসী, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। একটি গাভি হারানো মানে শুধু একটি পশু হারানো নয় বরং একটি পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন হারিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়েছে।