
বাংলা বছরের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে টঙ্গীতে আয়োজন করা হয় এক তথ্যসমৃদ্ধ ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ভরপুর উৎসব। যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, টঙ্গী শাখা এবং শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের যৌথ উদ্যোগে নাচ, গান, কবিতা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এ দিনটি উদযাপিত হয়।
গত ১৩ এপ্রিল, সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, টঙ্গী শাখার সভাপতি অলিদুর রহমান অলি এবং সঞ্চালনা করেন শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শাহাজাহান শোভন।
আলোচনা পর্বে বক্তারা চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, কৃষিভিত্তিক বাংলার জীবনযাত্রায় এর গুরুত্ব এবং বাংলা সনের উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে বিশদ আলোকপাত করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলা সনের প্রবর্তন মূলত কৃষকদের খাজনা আদায় সহজীকরণের উদ্দেশ্যে করা হয়, যা পরবর্তীতে বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। পাশাপাশি নবান্ন উৎসব, ঋতুচক্রের পরিবর্তন, গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সংক্রান্তির সম্পর্ক এবং বৈশাখের আগমনী তাৎপর্য নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অভিনেতা মাসুদ আলম, কবি আতিক শাহরিয়ার, ফুয়াদ সরকার, শাহীন কাওছার, নাট্যকার মুনসুর রহমান চঞ্চল, অভিনেতা সালাম তরুন, মনিরুল ইসলাম রাজিব, আনিসুল ইসলাম লিপু, সামসুল আমিন, মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্যরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে বাঙালির সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার প্রয়োজনীয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে আরোও বলেন বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চেতনার নানা দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে নবান্ন, বাংলা সনের উৎপত্তি ও গণনার ইতিহাস, এবং বৈশাখের তাৎপর্য নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করে।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন সুলতান মাহমুদ, রাসেল হোসেন, মিজান মীর, টুটুল বাঙালী, হাবিবুর রহমান ও আনিসুর রহমান। পরিবেশনায় দেশীয় লোকসংগীত, আধুনিক গান এবং কবিতার আবৃত্তির সমন্বয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পুরো আয়োজনটি ছিল জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক অনন্য সম্মিলন, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীরতর উপলব্ধি সৃষ্টি করে এবং নতুন বাংলা বছরের আগমনী বার্তাকে করে তোলে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত।