
আব্দুস সালাম, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্যাকেটজাত আইসক্রিমের ভেতরে কেঁচো পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিচালিত একটি আইসক্রিম কারখানায় জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন এবং উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল ২৩ মার্চ (২০২৬) উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে ‘পিওর’ ব্র্যান্ডের আইসক্রিম খেতে গিয়ে তিন শিশু প্যাকেটের ভেতরে কেঁচো দেখতে পায়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাদি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইসক্রিম বিক্রেতাকে আটক করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করেন।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মৌভাষা এলাকায় দুলু মিয়ার বাড়িতে অবস্থিত একটি আইসক্রিম কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, কারখানাটি কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা বিএসটিআই সনদ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন করে আসছিল।
কারখানার ভেতরে অত্যন্ত নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। মেঝেতে তেলাপোকা ও মাছির উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা থেকে আইসক্রিমে কেঁচো যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব আইসক্রিম তৈরিতে দুধ বা প্রাকৃতিক উপাদানের পরিবর্তে ক্ষতিকর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং ও স্যাকারিন ব্যবহার করা হচ্ছিল। পাশাপাশি অপরিশোধিত পানি ব্যবহারের কারণে এসব খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইসক্রিম বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা এবং কারখানার মালিক দুলু মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কারখানার সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাদি বলেন, “শিশুদের খাদ্যে এ ধরনের নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি জানার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গঙ্গাচড়া উপজেলায় অনুমোদনহীন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।