শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন
২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা
পরিকল্পনা করা হয় এক জন উপ-পরিচালকের অফিস কক্ষে?
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন চরমে, তখন কাওরানবাজারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ের এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঘটনার প্রায় এক দশক পর এসে হামলার পেছনের সম্ভাব্য পরিকল্পনাকারি ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন হামলার ঠিক আগমুহূর্তে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক উপ-পরিচালকের অফিস কক্ষে – তৎকালীন ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ মিজান, ছাত্রলীগ নেতা সাগর ও বিপ্লবসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
এই উপস্থিতি ঘিরেই নানা প্রশ্ন উঠছে।
হামলার আগে ওই ব্যক্তিরা সেখানে কেন ছিলেন,এটি কি কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো পরিকল্পনার যোগসূত্র ?
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত —বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার বিষয়টি যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ হয়নি। তবুও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কি সে সময় কোনো রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, হামলার ঘটনার পর ওই কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠতার ধাপ অতিক্রম করে দ্রুত পদোন্নতি পান। এ ছাড়া প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছিল কি না,এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সুশাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, এত বড় একটি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় যেসব ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে, তাঁদের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে,
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কি স্বাধীন তদন্তে সহযোগিতা করবেন?
জনআস্থা ফেরাতে তিনি কি প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন?
রাজনৈতিক পরিচয় বা আত্মীয়তার বাইরে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত হবে?
এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো অভিযোগ নয়; বরং জনস্বার্থে উত্থাপিত প্রশ্ন। ঘটনার প্রায় এক দশক পরও যদি এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না মেলে, তবে রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।
পরবর্তী পর্বে অধিক অনুসন্ধানের পর প্রকাশ করা হবে আলোচিত সেই সরকারি কর্মকর্তার নামসহ সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত তথ্য।