শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন না হওয়া বৈষম্যহীন ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরা। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবিতে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় তিন দিনব্যাপী অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রথম দিন পালন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা-এর উদ্যোগে সরকার কর্তৃক গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশকৃত বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের সামনে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মচারীরা অবস্থান ও বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বিভাগের সেবাপ্রার্থীদের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা বলাই শিমুল এলাকা থেকে আগত সেবাপ্রার্থী নুরুল হক বলেন, “সকাল ১০টার দিকে এসেছি। এখন প্রায় ১১টা বাজে, কিন্তু কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে কোনো কাজই করতে পারছি না।”
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, সর্বশেষ ৮ম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর প্রায় এক দশকে দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও বেতন কাঠামোয় কোনো কার্যকর সমন্বয় হয়নি। এতে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আয় কমে গিয়ে তারা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ, কেন্দুয়া উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আজহার আহম্মেদ বলেন, “প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলে বিদ্যমান গ্রেড কাঠামোর বৈষম্য দূর করে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন ও ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।”
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন তারা।