শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
উত্তরায় সিকিউরিটি সার্ভিসের নামে প্রতারণার অভিযোগ, চাকরির প্রলোভনে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দাবি
নার্গিস আক্তার :
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় কয়েকটি সিকিউরিটি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের আড়ালে প্রতারণা ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্ল্যাকমেইল ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অনেক ভুক্তভোগী।
এমনই এক প্রতিষ্ঠানের নাম মিলেনিয়াম সিকিউরিটি সার্ভিস। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হৃদয় এবং জিএম সাকিব চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
জানা গেছে, উত্তরা আজমপুর এলাকার এস টাওয়ারের লিফট-১০ নম্বর ফ্লোরে অবস্থিত মিলেনিয়াম সিকিউরিটি সার্ভিস থেকে চটকদার বিজ্ঞাপন ও আকর্ষণীয় প্রলোভনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের ডেকে নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হলেও চাকরি দেওয়া হয় না।
ভুক্তভোগী সাজু নামের এক ব্যক্তি দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকাকে দেওয়া অভিযোগে জানান, প্রতারক রায়হান ইসলাম (হৃদয়) ও সাকিব তার কাছ থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলেও তারা তা ফেরত দেননি। বরং সময়ক্ষেপণ করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাজু আরও বলেন, “চাকরির আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখন না চাকরি, না টাকা—উল্টো চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান ইসলাম (হৃদয়) ও সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবং দেব দিচ্ছি বলে ঘুরানো হচ্ছে। এই ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে আপনার অর্থ প্রতারক ফেরত না দিলে,তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা যায়।সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানির অফিসে সিনিয়র সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু গেলে, ভুক্তভোগী সাজুর টাকা ফেরত দিবে বলে আশ্বাস দিলেও, মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তারিখ দিয়ে বার বার ঘুরিয়ে এখন আর ফোন রিসিভ করছে না। এই প্রতারক চক্রের মুল হোতা রায়হান ইসলাম (হৃদয়) ও সাকিব এলাকার কিছু কিশোরগ্যাং অল্প বয়সী ছেলেদের মাসোয়ারা দিয়ে, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা হিসেবে কাজ করে।কোন ভুক্তভোগী যদি রায়হান ইসলাম (হৃদয়) বা শাকিবের সাথে পাওনা টাকার জন্য তার অফিসে যায়।তাহলে তাদের অন্য রুমে আটকে রেখে ভয় ভীতি দেখিয়ে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মুসলেকা রেখে তারপরে ছেড়ে দেয় । এবং বলে দেয় যদি কারো কাছে জানাস তাহলে তোদের জানে মেরে ফেলা হবে। এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মেয়ে সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যাপারে জানতে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও রায়হান ইসলাম( হৃদয়) ফোন রিসিভ করেনি।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।