শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মইজ্জারটেক। দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াতের প্রধান এই সংযোগস্থলে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি কর্ণফুলী ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধান হতে শুরু করেছে, ফিরেছে স্বস্তি।
বিশেষ করে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু সাঈদ বাকারের সরাসরি মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় সড়কের দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি কেবল দাপ্তরিক নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিদিন নিজেই সড়কে উপস্থিত থেকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিআই আবু সাঈদ বাকার নিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করায় পুরো ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি এসেছে। তাঁর সরাসরি তদারকির ফলে ট্রাফিক শৃঙ্খলায় স্পষ্ট ও দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জানা গেছে, পূর্বে মইজ্জারটেক এলাকায় সিএনজি ও অটোরিকশাগুলো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় প্রধান সড়ক কার্যত স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছিল, যা যানজটের অন্যতম কারণ ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর টিআই বাকার টিনের ঘেরা স্থাপন করে এসব যানবাহনকে গ্রামের শাখা সড়কে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ফলে প্রধান সড়কগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রশস্ত ও চলাচলযোগ্য হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে টিআই আবু সাঈদ বাকার বলেন,
“মইজ্জারটেক ও আশপাশের ক্রসিংগুলো যানজটমুক্ত করা আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে আমরা প্রধান সড়কগুলো সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। এর সুফল এখন সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, কর্ণফুলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় মাঝে মাঝে দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জনস্বার্থে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
মইজ্জারটেক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে যানজট অনেকটাই কমে এসেছে। আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হতো, এখন সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটেই পার হওয়া সম্ভব হচ্ছে। কর্ণফুলী ট্রাফিক পুলিশের এই জনবান্ধব ও কার্যকর উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।