শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
শেরপুর সদর উপজেলায় পূর্বপরিকল্পিত হামলা ও মিথ্যা অপহরণ মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ২৪ডিসেম্বর (বুধবার) দুপুরে উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের ধোপাঘাট এলাকায় ভুক্তভোগী মিনালের পরিবার ও এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. মিনাল জানান, গত ১৪ নভেম্বর বিকালে আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে মীরগঞ্জ সাইদুর তালুকদারের মেয়ের বিবাহ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে মীরগঞ্জ মেইন রোডে পৌঁছালে নুরজাহান ওরফে তারা মাও-এর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দা, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে মাটিতে পড়ে যায়।
ঘটনার পর তার বাবা মিস্টার আলী গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ১৫ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোঃ মিনাল আরও বলেন, মামলাটি কাউন্টার দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৩ ডিসেম্বর নুরজাহানের নাতিন মোঃ রিফাত (পিতা: মোঃ নুরুল ইসলাম) সহ ১৬ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে ওই মামলায় তার দুই চাচা করিম মিয়া ও রহিম মিয়া শেরপুর কারাগারে আটক রয়েছেন।
তিনি জানান, গত রাতে কথিত অপহৃত মোঃ রিফাতকে পুলিশ ঢাকায় বাদীপক্ষের আত্মীয়ের বাসা থেকে উদ্ধার করে শেরপুর সদর থানায় আটক করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রিফাতকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং তাকে আত্মগোপনে রেখে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয় সোহাগী আক্তার-এর নাম।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নুরজাহান ওরফে তারা মাও এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। চরশেরপুর ইউনিয়নের মানুষজনের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক হওয়া সত্ত্বেও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগ এনে নুরজাহান ওরফে তারা মাও এবং বাদী সোহাগী আক্তারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরপুর সদর থানার পুলিশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, সত্য ঘটনা তুলে ধরে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।