শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মো. আল আমিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জের ধরে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, মোঃ জলিল মিয়া (পিতা: আব্দুল জব্বার, ভাই: মোঃ মোতালিব মিয়া) দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদকের আস্তানা গড়ে তুলেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত (রাত ২/৩টা পর্যন্ত) বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অবাধ যাতায়াত চলে এবং ঘরের ভেতরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের সুযোগ দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নাজিরপুর একতা যুব সমাজ সেবা সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটি এর আগেও একাধিক মাদকসেবী ও মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আল আমিন জানান, গতকাল মোঃ জলিল মিয়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পশ্চিম পাড়ার কাজল মিয়াকে মারধর করে। বিষয়টি জানার পর তিনি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন এবং জলিল মিয়াকে তার বাড়িতে মাদকের আস্তানা না রাখার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জলিল মিয়া, তার ভাই মোতালিব মিয়া, বাবা আব্দুল জব্বার এবং তার বোন রাহেনা ও রুবেনা একত্রে তার ওপর হামলার চেষ্টা চালায়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মো. আল আমিন থানায় ফোন করে প্রশাসনকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে থানায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার কথা বললেও অভিযুক্তরা থানায় না গিয়ে আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
পরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সাংবাদিক আল আমিনের নিজ বাড়ির সামনে এসে মোতালিব মিয়া হুমকি দিয়ে বলেন,
“পুলিশ আনছোস, আরও কত পুলিশ আনতে পারিস আমি দেখব। তোর মুরুব্বিগিরি আর সাংবাদিকগিরি তোকে মাইরা বুঝাই দিমু।”
এ সময় তার বোন রাহেনা ও রুবেনা, মোতালিবের স্ত্রী এবং বাবা আব্দুল জব্বার একযোগে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। হামলাকারীরা ভিডিও ধারণে বাধা দেয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে সাংবাদিক আল আমিনকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক মো. আল আমিন প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ন্যায়ের পথে থাকতেই হামলার শিকার হয়েছি। অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপোষ নেই। ন্যায়বিচার না পেলে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ অবলম্বন করতে হবে, যার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও মাদকের আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।