নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক চাঁদ খোসাল মসজিদের দানবাক্স খুলে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৯ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া গত ছয় মাসে বিভিন্ন দানসামগ্রী বিক্রি করে পাওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা যোগ করে মোট ১০ লাখ ৮ হাজার ৪২৯ টাকা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) জোহরের নামাজের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা হয়। পরে পরিচালনা কমিটির সদস্য ও মুসল্লিদের সহযোগিতায় দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়।
মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্সে পাওয়া নগদ অর্থের পাশাপাশি গত ছয় মাসে মসজিদে দান হিসেবে পাওয়া হাঁস, মুরগি, কবুতর, ছাগল, গরু, স্বর্ণসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১০ লাখ ৮ হাজার ৪২৯ টাকা মসজিদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
চাঁদ খোসাল মসজিদের ক্যাশিয়ার মজনুর রহমান বলেন,জোহরের নামাজের পর সভাপতির উপস্থিতিতে দানবাক্স খুলে মুসল্লিদের সহযোগিতায় টাকা গণনা করা হয়েছে। দানবাক্সে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৯ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন দানসামগ্রী বিক্রি করে পাওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকাসহ মোট ১০ লাখ ৮ হাজার ৪২৯ টাকা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আরিফুর রহমান বলেন, দানবাক্স ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ মসজিদের ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মসজিদের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কাজে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
ঐতিহাসিক চাঁদ খোসাল মসজিদ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায়, মানত ও দান করতে আসেন। প্রতিবছরই মসজিদের দানবাক্সে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ায় এটি মানুষের ধর্মীয় আস্থা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।