সওজ’র গাফলতি চরমে,অকেজো হচ্ছে কোটি টাকার ফেরি
নাসির শরীফ,উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল সড়ক বিভাগ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, তদারকি ও সচল রাখার অভাবে কোটি টাকার ফেরি পল্টুন, যন্ত্রাংশ খোলা আকাশের নিচে, পানিতে তলিয়ে অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে।বরিশালের উজিরপুর উপজেলা সদরের সাথে গুঠিয়া ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ ও সহজতর করতে ২০২২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেরি সার্ভিস চালু করার নিমিত্তে কোটি টাকা মূ্ল্যের ইউটিলিটি টাইপের দুইটি ফেরি এবং পল্টুন স্থাপন করলেও ফেরি সার্ভিস চালু রাখতে পারেনি কর্তৃপক্ষ, দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে অব্যবহৃত থাকা সচল ফেরিগুলো অচল হয়ে পরে নষ্ট হয়ে গেছে।সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে উজিরপুর উপজেলার সাথে বানাড়িপারা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর জেলার সাথে সড়ক পথের দুরত্ব কমানোর লক্ষ্যে ওই ফেরি সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়, সেমতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় গত ২৭জানুয়ারি ২০২২ তারিখে ৩৫-১৫/৫৭ নং স্মারকে বরিশাল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে সন্ধ্যা নদীতে উজিরপুর- দাশেরহাট ফেরি সার্ভিস চালু এবং ভাড়া নির্ধারন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করার আদেশ দেয়া হলে কর্তৃপক্ষ সেখানে ফেরি, পল্টুন,গ্যাংওয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করলেও একদিনের জন্যেও ফেরি চলাচল করেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে অচল হয়ে পরে থাকায় কোটি টাকার ফেরির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে, কাঠমোতে মরিচা ধরে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, কন্ট্রোল প্যানেল, ড্রাইভিং হুইলসহ খুচরা যন্ত্রাংশ ইতিমধ্যেই গায়েব হয়ে গেছে, পানিতে তলিয়ে রয়েছে পল্টুনসহ গ্যাংওয়ে, জোয়ারের সময় একটি ফেরি ভাসমান থাকলেও ভাটির সময় একপাশ তীরে উঠে থাকায় মাটির সাথে আটকে গিয়ে ডুবে যেতে পারে কোটি টাকার ফেরিটি। আরেকটি ফেরি দিয়ে খেয়া পারাপারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।এলাকাবাসির দাবী সড়ক বিভাগের উদাসীনতায় কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ এভাবে অবহেলায় ধ্বংস হবার পথে, দাশের হাট- উজিরপুর ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক, অথবা ফেরিগুলোকে অন্য কোথাও কাজে লাগানো হোক তবুও এভাবে যেন নষ্ট করা না হয়।উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন অচল ফেরি সার্ভিসের বিষয়টি অনেক আগেই সড়ক জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে তবে তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি, একটি পল্টুন শিকারপুর সরকারি খাদ্য গোডাউনে মালামাল উঠানোর কাজে ব্যবহারের জন্য স্থানান্তর করার বিষয়টি অগ্রাহ্য থেকে গেছে।বরিশাল সড়ক বিভাগ (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ফেরি বিভাগের কাছে জানানো হবে প্রয়োজনে ফেরিগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে।