গাওয়াইর মাদ্রাসার পিছনে লিপির ক্ষমতা বলে নকশা না নিয়েই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে রাজউকের তদারকি
এস এম নুর ইসলাম :
রাজধানীর দক্ষিণখান থানার গাও য়াইর মাদ্রাসার পিছনে লিপি একটি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ ঘিরে নকশা লঙ্ঘন ও রাজউকের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমিকম্প ঝুঁকির সতর্কতার মধ্যেও সংশ্লিষ্ট ভবনটিতে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তৃতীয় তলার কাজ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় খালি স্থান (সেটব্যাক) না রেখে প্রায় পুরো জমি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে ভবনের নিরাপত্তা ও আশপাশের বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবন মালিক লিপি সংশ্লিষ্টরা রাজউকের অনুমোদিত নকশা না করেই নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তাদের দাবি, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
নির্মাণকাজে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট-১৯৫২, টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩, ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC)-২০২০-এর বিভিন্ন নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে না।
ঘটনাস্থলে কোনো নির্মাণ তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। এছাড়া শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য বাধ্যতামূলক সেফটি নেট ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থারও ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ভবন মালিক লিপি নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে বলেন আমার জায়গায় আমি বাড়ি করব রাজউক কে? যে আমাকে নিষেধ দিবে “প্রতিদিনই রাজউকের ইন্সপেক্টর আসেন।” তবে নকশা সংক্রান্ত প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
অন্যদিকে রাজউকের সংশ্লিষ্ট জোনাল ইন্সপেক্টর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মালিকপক্ষকে একাধিকবার অনুমোদিত নকশা প্রদর্শনের জন্য বলা হয়েছে। “এখনও অনুমোদিত নকশা দেখানো হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
নগর পরিকল্পনাবিদ ও নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় নকশাবহির্ভূত বা বিধিমালা লঙ্ঘন করে নির্মিত ভবন জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।