বিশেষ প্রতিনিধি
কুমিল্লার চান্দিনায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগে স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ৩০ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল গ্রামের আবুল হাসেম স্বর্ণকারের ছেলে মো. সাখাওয়াত হোসেন সাক্কুর সঙ্গে বাদীর রেজিস্ট্রি কাবিননামা অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকা ও আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে অভিযুক্তরা আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধরও করা হয়। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। বরং মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদীর অভিযোগ, তিনি অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায়ও যৌতুকের দাবিতে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তার চার মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মুন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন গৃহবধূর স্বামী মো. সাখাওয়াত হোসেন সাক্কু, তার বাবা মো. আবুল হাসেম সরকার, তার বোন এবং আরও দুই স্বজন। তাদের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাছে পাঠিয়েছেন।
এদিকে মামলার বাদী অভিযোগ করেন, তদন্তের নামে অভিযুক্ত সাখাওয়াত ও তার সহযোগীরা তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। পাশাপাশি হুমকি-ধমকি দিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে।”