সুবিধা না পেয়ে আটাবহ ইউপি সচিব আবদুছ ছামাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
আশরাফুল আলম সরকার
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবদুছ ছামাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সচিবের পক্ষের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রত্যাশিত সুবিধা না পেয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সম্প্রতি সচিবকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়ায় একটি পক্ষ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে সচিব আবদুছ ছামাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাকে পেশাগত ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, সচিব আবদুছ ছামাদ নম্র, ভদ্র ও সহযোগিতাপরায়ণ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে তিনি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “আমি ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার সেবা নিতে এসেছি। সচিবের আচরণ কখনো খারাপ মনে হয়নি। বরং তিনি ধৈর্য ধরে মানুষের কথা শোনেন।”
আরেক সেবাগ্রহীতার ভাষ্য, “কোনো কাজ নিয়মের বাইরে করা সম্ভব না হলে সেটি বুঝিয়ে বলা হয়। এটাকে হয়রানি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারও ব্যক্তিগত সুবিধা পূরণ না হলেই যদি অভিযোগ তোলা হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, সরকারি দপ্তরে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা উচিত। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে সেটির সত্যতা যাচাই করাও জরুরি। কারণ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তারা বলেন, সচিব আবদুছ ছামাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সচিব আবদুছ ছামাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের।