বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, মানসম্মত পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে মনোহরদী উপজেলার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান। পরিদর্শনকালে টিফিনের পর অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও চন্দনবাড়ি এস এ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনে দেখা যায়, টিফিনের পর অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রম থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসই শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টিফিনের পর ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা পাঠের ধারাবাহিকতা হারায় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সমস্যায় পড়ে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পরীক্ষার ফলাফলসহ তাদের সামগ্রিক শিক্ষাজীবনে।
বিশেষ করে বিজ্ঞানসহ ব্যবহারিক ও অনুশীলননির্ভর বিষয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী খাতায় নিয়মিত অনুশীলন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই সঙ্গে আনা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং শিক্ষকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ে টিফিনের পর শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির পেছনে অভিভাবকদের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবও একটি কারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে। ফলে বিষয়টিকে শুধু শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি হিসেবে না দেখে এর কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থীর সমন্বয় জরুরি
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও কার্যকর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদানের পাশাপাশি টিফিনের পর উপস্থিতির বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শ্রেণিশিক্ষকের মাধ্যমে ফলোআপ এবং প্রয়োজন হলে তাদের অভিভাবকদের অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরী।
অভিভাবকদেরও সন্তানের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা এবং টিফিনের পর অকারণে বিদ্যালয় ত্যাগ করছে কি না, সে বিষয়ে নজরদারি করা আবশ্যক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সন্তানের পড়াশোনা, উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কে অবগত থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয় এটি তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান শর্ত। টিফিনের পর ক্লাস ফাঁকি দেওয়া বা অকারণে বিদ্যালয় ত্যাগ করা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের শিক্ষাজীবনেরই ক্ষতি করে।
প্রয়োজনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অবহিতকরণ, শ্রেণিশিক্ষকের মাধ্যমে ফলোআপ এবং অভিভাবক সমাবেশের মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
আলোকিত প্রজন্ম গড়তে দায়িত্ব সবার
একজন শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার, শিক্ষক, বিদ্যালয় ও সমাজের প্রত্যাশা। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা সবার যৌথ দায়িত্ব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শনে উঠে আসা চিত্রটি মনে করিয়ে দেয় সুশিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু মানসম্মত পাঠদানই যথেষ্ট নয় প্রয়োজন নিয়মিত উপস্থিতি, শৃঙ্খলা, অভিভাবকের সচেতন নজরদারি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সহযোগিতা।
এবিষয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন
শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই গড়ে উঠতে পারে নিয়মিত উপস্থিতি, মানসম্মত শিক্ষা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ। আজকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতাই হবে আগামী দিনের আলোকিত প্রজন্মের ভিত্তি।