উত্তরার সার্বিক অবস্থা: যানজট, সড়ক ও নাগরিক দুর্ভোগে নাকাল নগরবাসী
রিপোর্টার রোজি সুলতানা উষা।
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা উত্তরা। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে উঠলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জনসংখ্যা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের চাপ। ফলে উত্তরার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে যানজট। বিশেষ করে জসীমউদ্দীন, হাউজ বিল্ডিং, আজমপুর, বিমানবন্দর ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ব্যস্ত সময়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কের কিছু অংশের দুরবস্থা ও যানজটের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
উত্তরার গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে এবং উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় বাসের অতিরিক্ত চাপ, যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের কারণে স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
যানজটই বড় সমস্যা
উত্তরার সবচেয়ে বড় নাগরিক সমস্যা এখন যানজট। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হন। ফলে উত্তরা থেকে বিমানবন্দর ও আব্দুল্লাহপুরমুখী সড়কে চাপ তৈরি হলে এর প্রভাব দ্রুত আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। গত জুলাইয়ে উত্তরায় সড়ক অবরোধের ঘটনায় বিমানবন্দরমুখী সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে কুড়িল পর্যন্ত যানবাহনের সারি পৌঁছানোর খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখল
স্থানীয়ভাবে আলোচিত আরেকটি সমস্যা হলো যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং ফুটপাতের ওপর বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা ও স্থাপনা। এতে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে অনেক সময় মূল সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হন। ফলে যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলও সড়কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উত্তরার প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে নাগরিক দুর্ভোগের কথা উঠে এসেছে।
উন্নয়ন প্রকল্পে আশার আলো
তবে উত্তরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর যোগাযোগ ব্যবস্থায় একাধিক উন্নয়ন উদ্যোগ চলছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সম্প্রতি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, বাইপাইল ও ইপিজেড এলাকার যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর সামগ্রিক যানজট কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে এআই ক্যামেরা স্থাপন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে।
নাগরিক সেবায় আরও নজর প্রয়োজন
উত্তরায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত বাড়ায় পানি নিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতা, ফুটপাত, পার্কিং ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানোর ব্যবস্থা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা জরুরি।
উত্তরার ও -এর মতো উন্মুক্ত স্থানগুলো নগরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিত সবুজ ও বিনোদন এলাকার সংরক্ষণও একটি বাসযোগ্য উত্তরা গড়ার অংশ হওয়া প্রয়োজন।
প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
নগরবাসীর মতে, শুধু একটি সড়ক প্রশস্ত বা একটি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করলেই উত্তরার সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে না। সড়ক, গণপরিবহন, পার্কিং, ফুটপাত, ড্রেনেজ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।
উত্তরার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা—চলমান বড় প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে শেষ করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের ছোট ছোট সমস্যারও দ্রুত সমাধান করা হবে। তাহলে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা যেমন স্বাভাবিক হবে, তেমনি নাগরিক জীবনেও ফিরবে স্বস্তি।