
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এক জোরালো অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। আইন অমান্য করে নদীগর্ভ থেকে বালু তোলার অপরাধে একটি ড্রেজার বোর্ডসহ ৪ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। একই সাথে ড্রেজার মালিকসহ আটককৃতদের নগদ ২ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার নদী এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শহিদুল্লাহ।
অভিযানের বিবরণ ও দণ্ডাদেশ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিকলীর নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও ফসলি জমি চরম হুমকির মুখে পড়ে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে অবৈধভাবে বালু তোলার সময় একটি বিশালাকার ড্রেজার বোর্ড জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ড্রেজার মালিকসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
পরে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধীদের নগদ ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শহিদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান:
"নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। যারা আইন অমান্য করে সরকারি সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষতি করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। নিকলীতে অবৈধ ড্রেজার বা বালু খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। নদী রক্ষায় এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||