প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৬, ২০২৬, ৯:০৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
দুই বছর ধরে ডাক্তারশূন্য বড়বিল স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সংসদ সদস্যর হস্তক্ষেপ চাইলেন চেয়ারম্যান

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘ দুই বছর ধরে সেকমো (সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে ইউনিয়নের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ অবস্থার দ্রুত সমাধান চেয়ে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সামছুল হুদা। আবেদনের অনুলিপি গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছেও প্রদান করা হয়েছে।
আবেদনে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে বড়বিল ইউনিয়ন রংপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ ইউনিয়ন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো সেকমো না থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে কর্মরত সেকমো ও ভিজিটরের মধ্যে মতবিরোধের জেরে ওই চিকিৎসক স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বেও কোনো চিকিৎসককে নিয়মিত দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি।
আবেদনে আরও বলা হয়, কেন্দ্রে কর্মরত ভিজিটর চাকুরীবিধি অনুযায়ী নিয়মিত উপস্থিত থেকে গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় সেবা ও পরামর্শ প্রদান করছেন না। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারি কোয়ার্টার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখানো হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, আগে ল্যাম্ব নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি সেবা প্রদান করত এবং মাসে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি প্রসবসেবা দেওয়া হতো। পরবর্তীতে আরডিআরএস তিন বছরের জন্য কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও সমন্বয়হীনতার কারণে মাত্র দুই মাস পরই বড়বিল ইউনিয়নের কার্যক্রম বন্ধ করে অন্যত্র চলে যায়।
এর ফলে গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি থাকলেও গত তিন বছরে কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি বলেও অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানান।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. সামছুল হুদা বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি সংসদ সদস্যের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজানুল হাসান বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||
দুঃখিত আপনি এই সাইট থেকে কন্টেন কপি করতে পারবেন না। দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ ওয়েব সাইট থেকে কন্টেন কপি করা আইনানুক অপরাধ। ধন্যবাদ