ঈদুল আজহার মাত্র চারদিন বাকি থাকলেও রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটে এখনো ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেকে গরুর দাম যাচাই-বাছাই করছেন এবং বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।
গতকাল শনিবার পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ব্যাপারীরা গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অনেক ঘাটাল এখনো খালি এবং পর্যাপ্ত গরু এসে পৌঁছায়নি। হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি সীমিত থাকায় কেনাবেচার তৎপরতা শুরু হয়নি। হাটে বরাবরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ৪ থেকে ৬ মণ গোশত পাওয়া যায় এমন গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। এসব গরুর ক্ষেত্রে গোশতের দাম গড়ে ৩৫ হাজার টাকা মণ পড়ছে বলে জানা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, কোরবানির জন্য তিন মণ গোশত পাওয়া যায় এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর চার মণ গোশত মিলবে এমন গরুর দাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতাকে গরু কিনে হাট থেকে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়নি। বরং হাটে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকায় গরু রাখার জায়গা সংকটের কারণে সাধারণত ঈদের দুদিন আগে কেনাবেচা বেশি জমে।
গাবতলী হাটে গরু দেখতে আসা খালেক জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট বাজেট নিয়ে এসেছেন এবং সেই বাজেট অনুযায়ী গরুর দাম যাচাই করছেন। এখন গরু কিনে রাখার সুযোগ নেই। তবে ব্যাপারীরা বর্তমানে দাম কিছুটা বেশি হাঁকছেন। তবে ঈদের আগ মুহূর্তে দাম কিছুটা কমতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা এক ব্যাপারী বলেন, গাবতলী হাটে দেশি ষাঁড় গরু এনেছি। হাটে ক্রেতা একেবারেই কম। প্রথমে দেশে আনার সময় গরুগুলোর শরীরে শুধু হাড় ছিল। এরপর ধানের কুড়া, খেসারি, ভুট্টা, ধান ও ভুসিমিশ্রিত দানাদার খাবার খাইয়ে সেগুলো ধীরে ধীরে মোটাতাজা করা হয়। এখন এসব গরু দেশীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।
এদিকে, রাজধানীর গাবতলী, পোস্তগোলা, শাজাহানপুর, ধোলইখাল, কমলাপুর, মাতুয়াইল পশুর হাটে প্রতিদিনই আসছে কোরবানির পশু। ক্রেতারা আসছেন, পশুর গায়ে হাত বুলিয়ে দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দের পশু ক্রয় করছেন। বিক্রেতাদের আশা, দু-একদিনের মধ্যেই আরো হাটে জমে উঠবে কোরবানির পশুর কেনাবেচা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক ও পিকআপে করে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারীরা। তবে হাটের কিছু অংশ এখনো ফাঁকা। সংশ্লিষ্ঠদের মতে শিগ্রই অরো জমে উঠবে এবারের পশুর হাট।হাটে ক্রেতাদের বেশ উপস্থিতি থাকলেও বিক্রি হচ্ছে কিছুটা কম। অনেক ক্রেতাই দরদাম করে বাজার ঘুরে দেখছেন।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা গরু ব্যাপারী জাফর হোসেন বলেন, ক্রেতারা এসে গরু দেখছেন, গায়ে হাত বুলাচ্ছেন, দরদাম করছেন। তবে কিনছেন এমন লোকের সংখ্যা কম। আমরা আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে বেচাকেনা আরো জমে উঠবে। পুরোপুরি হাট জমতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে, হাটে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি ফেলেছে ভাবনায়।
যশোর থেকে আসা ইন্তাজ আলী বলেন, ঢাকায় গরু রাখার জায়গা কম থাকায় অনেকেই কোরবানির এক-দুদিন আগে গরু কেনেন। এখন মানুষ বাজার বুঝতে আসছেন তাই বেচাকেনা তুলনামূলক কম। পছন্দ হলে গরু দেখে রাখছেন। আশা করছি ২৪ বা ২৫ তারিখ রাত থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত জমজমাট বেচাকেনা হবে।
উত্তর শাহজাহানপুর এলাকার বাসিন্দা সিফাত হোসেন ঘুরতে এসেছেন শাহজাহানপুর পশু হাটে। তিনি বলেন, শুধু বাজার দেখতে এসেছি। চাঁদ রাতে গরু কেনার ইচ্ছা আছে। তবে দরদাম মিলে গেলে আগেই কিনে নেবো। বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি, বাজার পরিস্থিতিও বুঝে নিচ্ছি। এমন না যে সবই দেখছে। অনেকইে কিনছেন। গতবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তারপরও বাজার দেখছি। বাজেটের মধ্যে ভালো গরু পেলে আগেই কিনে নেবো। এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বাড়ছে প্রাণচাঞ্চল্য। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিনই আসছে পশু। থেমে নেই ভারতীয় গরু আসাও। হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও দাম তুঙ্গে বলে দাবি ক্রেতাদের। সামর্থ্যের মধ্যে অনেকে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পশু। কেউ আবার ঘুরপাক খাচ্ছেন অতিরিক্ত দামের গন্ডিতে।
একটি হাটের ইজারাদার বলেন, হাটের প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আলাদা ব্যবস্থা নিয়েছি। পশু ও খামারিদের যেন কষ্ট না হয়, সেজন্য ত্রিপল, খড় ও বালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখনো মানুষ বেশি কিনছে না, তবে কয়েকদিন পর পুরো হাট জমে উঠবে। ট্রাকে করে পশু আসছে, সেগুলো নামিয়ে হাটে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতারাও আসছেন। তবে হাটে আসা অধিকাংশ ক্রেতাই দরদাম জিজ্ঞেস করলেও পশু কিনছেন না। ফলে হাট শুরুর চার দিন পার হলেও বিক্রি জমেনি। এবার বর্ষা মৌসুম হওয়ায় বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছেন ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা। বৃষ্টি থেকে পশু ও খামারিদের সুরক্ষায় বড় বড় ত্রিপল টানানো হচ্ছে। নিচু জায়গাগুলোতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সেখানে বালু ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি খড়, পলিথিন, রেকসিন ও কাঠের অস্থায়ী মাচা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||