প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৬, ২০২৬, ১০:১২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১৭, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

বিগত ২০১৫-১৬ সাল থেকে মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সরকারি প্রকল্পের নামে ভূমি অধিগ্রহণ চলছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, বন্দর সড়ক, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এলাকার পৈতৃক ভিটেমাটি, লবণ মাঠ, চিংড়ি ঘের, কৃষিজমি ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবারই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, আপনাদের জমির ন্যায্য মূল্য দেওয়া হবে, মহেশখালীবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বাজারদরের চেয়েও বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবতা আজ নির্মম, অপমানজনক ও বৈষম্যমূলক।
গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে মাতারবাড়ী বন্দর রোড প্রকল্পের জন্য ৮ ধারার নোটিশ জারি করা হয়েছে। সেখানে জমিকে নাল, খিলা, নুন মাঠ ইত্যাদি শ্রেণিতে ভাগ করে একরপ্রতি ৪ লাখ, ৯ লাখ, ১২ লাখ, ১৪ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে (এই মুল্যের ২০০% উল্লেখ করা হয়)। এই মূল্য শুধু অযৌক্তিকই নয়, এটি মহেশখালীর মানুষের সাথে এক ধরনের নির্মম তামাশা।
যে নুন মাঠে এক মৌসুমে লবণ উৎপাদন ও মাছ চাষ করে এর দ্বিগুণ আয় হয়, সেই জমির মূল্য কয়েক লাখ টাকা নির্ধারণ করা মানে আমাদের জীবন-জীবিকাকে অপমান করা। একটি পরিবারের বছরের পর বছর বেঁচে থাকার অবলম্বন, সন্তানের ভবিষ্যৎ, পূর্বপুরুষের স্মৃতি, সবকিছুকে কয়েক লাখ টাকায় মাপার এই অন্যায় সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে পারি না।
লবণচাষি জানতে চাই?
কেন শুধু মহেশখালীর মানুষ বারবার বৈষম্যের শিকার হবে? কেন কক্সবাজার জেলার অন্যত্র বাজারদরে জমির মূল্য নির্ধারণ হলেও মাতারবাড়ী, ধলঘাটা ও কালারমারছড়ার মানুষের ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করা হবে? কেন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তারা বাস্তব বাজারমূল্য, জমির উৎপাদনশীলতা ও মানুষের জীবিকার বিষয়গুলো বিবেচনা করছেন না? কেন উন্নয়নের নামে স্থানীয় মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে?
উন্নয়ন যদি মানুষের জীবন ধ্বংস করে, তবে সেই উন্নয়ন কার জন্য?
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নই, উন্নয়নেরও বিরুদ্ধে নই। কিন্তু উন্নয়নের নামে আমাদের অস্তিত্ব ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নেব না। আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাববেন না। মহেশখালীর মানুষ এখনো শান্ত আছে, কিন্তু দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, প্রতারণা ও বৈষম্য মানুষের ভেতরে ক্ষোভের আগুন তৈরি করছে।
আজ আমরা আপনাদের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক নোটিশ সংশোধন করুন। জমির প্রকৃত বাজারমূল্য অনুযায়ী ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করুন। লবণ মাঠ, মৎস্য চাষের জমি ও উৎপাদনশীল ভূমির প্রকৃত আয় ও সম্ভাবনা বিবেচনায় আনুন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিন। অন্যথায়, মহেশখালীর মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। সেই পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
এলাকাবাসী লবণের দাম ও ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন, না হয় প্রকাশ্যে স্বীকার করুন- এই রাষ্ট্রে মহেশখালীর মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।