প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৬, ২০২৬, ৬:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১২, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
তেরোখাদায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে বিএনপি কৃষকবান্ধব,জনমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং কৃষক ও মৎস্যচাষীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, কৃষিজমিতে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং মাছ উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবসময় গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তাঁর সেই উন্নয়ন দর্শন অনুসরণ করেই বিএনপি আজও কৃষকবান্ধব ও জনমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, এটি গ্রামীণ জনপদের জীবন-জীবিকা রক্ষার একটি কার্যকর উদ্যোগ। তিনি বলেন, একসময় এ অঞ্চলের খালগুলো ছিল কৃষি ও মৎস্যসম্পদের প্রধান অবলম্বন। কিন্তু দীর্ঘদিন খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচ সংকটে পড়েছেন, জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং মৎস্য উৎপাদনও কমে গেছে। এখন খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেই পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য আবার ফিরে আসবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে পানি সংকট, জলাবদ্ধতা ও কৃষি ক্ষতির মতো নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবেলায় খাল খনন অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। খাল পুনঃখননের ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, কৃষকরা সময়মতো চাষাবাদ করতে পারবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে।
পরিশেষে তিনি স্থানীয় জনগণকে খাল ও জলাশয় রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সবাইকে খাল দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে এগিয়ে আসতে হবে।
গতকাল ১০মে দিনব্যাপী তেরোখাদা উপজেলার ধুনদুশিয়া-কাটাশিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় ১৩ দশমিক ০৫ কিলোমিটার খাল খনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (CDRSSWRMP) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), খুলনার সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ধুনদুশিয়া-কাটাশিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় ১৩ দশমিক ০৫ কিলোমিটার খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে তেরোখাদা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধার আওতায় আসবেন। আগে যেখানে অনাবৃষ্টি বা পানি সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো বোরো ও অন্যান্য ফসল আবাদ করতে পারতেন না, সেখানে এখন সহজেই জমিতে পানি পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, ফসলের বহুমুখীকরণ সম্ভব হবে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমে আসবে। পাশাপাশি খালের পানিকে কেন্দ্র করে মৎস্যচাষের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে, স্থানীয় যুবসমাজ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হবে। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং জীববৈচিত্র্যও সংরক্ষিত হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর দপ্তর এলজিইডি’র প্রকল্প পরিচালক ইনামুল কবীর এবং খুলনা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম সরদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ আশরাফুজ্জামান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী জুলু, এনামুল হক সজল, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক, মৎস্যচাষী বৃন্দ।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||
দুঃখিত আপনি এই সাইট থেকে কন্টেন কপি করতে পারবেন না। দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ ওয়েব সাইট থেকে কন্টেন কপি করা আইনানুক অপরাধ। ধন্যবাদ