নফসের অন্যতম বড় ত্রুটি হলো, বারবার গুনাহ করা যা একসময় মানুষের অন্তরকে কঠোর করে তোলে। এটি এমন এক ব্যাধি, যার ফলে মানুষ ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এই অবস্থার আধ্যাত্মিক বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
“বান্দা যখন একটি গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। যদি সে তওবা ও ইস্তিগফার করে, তবে সেই দাগ মুছে গিয়ে অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু সে যদি তওবা না করে আবার গোনাহ করে, তবে সেই কালো দাগ আরও বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে একসময় পুরো অন্তর অন্ধকারে ঢেকে যায়। ” অত:পর রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরআনের এই আয়াতটি পড়লেন,
{কখনোই নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।} (সূরা মুতাফফিফীন: ১৪)
অন্তর যখন গুনাহের ভারে কঠোর হয়ে যায়, তখন সালাফগণ কয়েকটি মহৌষধের কথা বলেছেন:
* রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও দিনে সত্তর বারের বেশি ইস্তিগফার করতেন। আমাদের উচিত সবসময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, যাতে নতুন কোনো দাগ অন্তরে বসতে না পারে।
* এক ব্যক্তি নবীজি ﷺ-এর কাছে এসে নিজের অন্তরের কঠোরতার অভিযোগ করলে তিনি বলেছিলেন, “যিকিরের মজলিসের কাছাকাছি হও।” কারণ, যিকির অন্তরের কঠোরতাকে গলিয়ে দেয়।
* দিনের রোজা নফসের কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে, আর রাতের তাহাজ্জুদ আল্লাহর সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে অন্তরকে সজীব করে।
* যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, তাদের সেবা করা এবং তাদের সংস্পর্শে থাকা। কারণ আগুনের পাশে বসলে যেমন তাপ লাগে, নেককারদের পাশে থাকলে তাঁদের অন্তরের নুর আপনার অন্তরেও প্রভাব ফেলবে।
* সবসময় ভালো মানুষের সাথে উঠাবসা করা। এটি নফসকে গুনাহের চিন্তা থেকে দূরে রাখে।
অন্তর যেন এক স্বচ্ছ আয়না, আর গুনাহ তার ওপর জমে থাকা ধুলোবালি। ধুলো জমতে জমতে যেমন আয়নার স্বচ্ছতা হারিয়ে যায়, তেমনি গুনাহ বাড়তে বাড়তে অন্তরও অন্ধকারে ঢেকে যায়।
ইস্তিগফারই একমাত্র মাধ্যম, যা এই ধুলো সরিয়ে অন্তরকে আবার উজ্জ্বল ও জীবন্ত করে তোলে।
আর যখন অন্তর কঠোর হয়ে যায়, তখন সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো, ইবাদতে আর প্রশান্তি অনুভূত হয় না, আর আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েও চোখে অশ্রু আসে না।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের অন্তরে সজীবতা দান করুন,ইবাদতে মিষ্টতা ও প্রশান্তি নসিব করুন। আমিন
Salman Farsi
সূত্র: উয়ুবুন নফস -- আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি রহ.
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||