গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কুনিয়া তারগাছ এলাকায় অবস্থিত “জমিলা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ফার্টিলিটি (বন্ধ্যাত্ব) কেয়ার সেন্টার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক এ এক নারী চিকিৎসকের চেম্বারে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে, শনিবার বেলা ১২ টার সময় সংবাদ সম্মেলন ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে, এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শতো শতো সাধারণ মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এলাকাবাসীরা জানান অবিলম্বে হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমরা মহাসড়ক অবরোধ করে আরো বড় কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকব। এ ঘটনায় ডাঃ আফরোজা আক্তার (ডলি) গাছা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিরা হলেন, ১) মোঃ আশিকুর রহমান ইমন (২৬), ২) মোঃ রাজু আহম্মেদ শাহীন (৪০), ৩) মোসাঃ কামরুন্নাহার মুন্নি (৩৫), ৪) মোসাঃ লামিয়া শারমিন তানহা (২৫) এবং তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন।
ভুক্তভোগী চিকিৎসক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে অভিযুক্তরা রোগী হিসেবে সিরিয়াল নেন। কিন্তু তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় থাকায় সেদিন চিকিৎসা দিতে না পারায় অভিযুক্তরা হাসপাতালের স্টাফদের সাথে অশোভন আচরণ ও হুমকি প্রদান করে চলে যায়।
পরবর্তীতে গত ২২ এপ্রিল বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ৪নং বিবাদী চিকিৎসা নিতে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করেন। কিন্তু চিকিৎসা শেষে তিনি ও তার স্বজনরা হাসপাতালের স্টাফদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং মোবাইল ফোনে অন্যদের ডেকে আনে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান একইদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লোহার রড, পাইপ ও লাঠিশোটা দিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি করে। এ সময় ১নং, ২নং ও ৩নং বিবাদী হাসপাতালের দুই নার্স আছমা ও সাবরিনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আহত করে এবং আমার চেম্বারে প্রবেশ করে।
তারা আমার চেম্বারে ডুকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
এক পর্যায়ে ১নং বিবাদী ধারালো ছুরি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। আহত অবস্থায় আমি মেঝেতে পড়ে গেলে ২নং বিবাদী চেম্বারের ড্রয়ার থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং ৩নং বিবাদী আমার গলায় থাকা আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আমাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে আমি কিছুটা সুস্থ হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করি তদন্ত শেষে বর্তমানে মামলা রুজু হয়।
আরও দাবি করেন অভিযুক্তরা মামলা করলে আমার হসপিটাল ভাংচুর ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন, গাছা মেট্রো থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি ওহেদুজ্জামান জানান মামলা রুজু হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||