সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের একটি সড়কের কাজ ফেলে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাসের বেশি সময় ধরে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ইউনিয়নের শালেস্বর,ঘড়ুয়া,চারাবই,পাতন ও দেউলগ্রামসহ ৫ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ইউনিয়নটির চারাবই দক্ষিণ মোড় থেকে উত্তর দিকে চারাবইর জালাল জাহাঙ্গীরের বাড়ির মোড় পর্যন্ত ওই সড়কে পাকাকরণের কাজ শুরু হয়েছিল।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে,বিয়ানীবাজার উপজেলা শহরের সঙ্গে ইউনিয়নটির বাসিন্দাদের যোগাযোগের জন্য রাস্তার ইট তুলে পাকাকরণ কাজের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্র জানায়,শেওলা ইউনিয়নের চারাবই গ্রামের ১ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়কের টেন্ডার হয় ২০২৫ সালে। এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দের এ কাজ পান তানিম এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদার তানিম আহমেদ নামের ব্যক্তি ।ওই বছরের জুন মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এরপর জুলাই মাসের প্রথম দিকে ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। এ বছরের এপ্রিল মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কয়েক মাস ধরে রাস্তা খুঁড়ে প্রতিষ্ঠানটির লোকজন কাজ ফেলে চলে যান। চলিত বছরের এপ্রিল মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে অতিবাহিত হলেও বাকি কাজ এখনো শেষ হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়,কাঁদা মাটিতে পরিণত হয়েছে।কাদাময় পথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,‘সংস্কারের আগে সড়কটি দিয়ে তবু চলাচল করতে পারতাম। এখন তো চলাই কঠিন। দীর্ঘদিন রাস্তা মেরামতের কাজটি বন্ধ থাকায় গ্রামের লোকজনের চলাচলের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতের জন্য সিলেট ৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি র সহায়তা চান।
ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন,ঠিকাদার ‘সড়ক খুঁড়ে ম্যালা দিন থাকি কাজ বন্ধ করি রাখছে। এখন পায়ে হেঁটে চলাচল করা যায় না। খালি কাঁদা আর কাঁদা ।’
এ বিষয়ে জানতে মেসার্স তানিম এন্টারপ্রাইজের তানিম স্বত্বাধিকারী তানিম আহমদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। তবে প্রতিবারই সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীকে ডেকে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা কাজ করছে না।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||