সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষায় এক অভিনব ও কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা। পাম্পে গিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করছেন—গাড়ির বৈধ কাগজপত্র থাকলেই কেবল মিলছে জ্বালানি তেল। প্রশাসনের এমন জনবান্ধব ও সাহসী পদক্ষেপ এখন টক অফ দ্য টাউন।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিনের মতোই ছিল তেলের জন্য সাধারণ মানুষের ভিড়। তবে হঠাৎ দৃশ্যপট পাল্টে যায় যখন সেখানে উপস্থিত হন এসিল্যান্ড মৌনা। কোনো প্রথাগত জরিমানা বা মামলার চেয়ে তিনি বেছে নিলেন সচেতনতামূলক এক কঠোর পথ। তিনি পাম্প কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দেন—লাইসেন্স, ফিটনেস বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহনকে এক ফোঁটা জ্বালানিও দেওয়া যাবে না।
অভিযান চলাকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই প্রতিটি মোটরসাইকেল ও যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। যাদের কাগজ সঠিক পাওয়া গেছে, কেবল তারাই তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় অনেক চালককে তেল না নিয়েই ফিরে যেতে দেখা গেছে। "সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অবৈধ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে এই ঝটিকা অভিযান। মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।" — সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
প্রশাসনের এমন সরাসরি তদারকিতে পাম্প এলাকার চিরচেনা বিশৃঙ্খলা মুহূর্তেই উধাও হয়ে যায়। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ পথচারী ও সচেতন মহল। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত এমন অভিযান চললে সড়কে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন চালকদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন এই নারী কর্মকর্তা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, হরিণাকুণ্ডুর এই 'মডেল' সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্টদের অভিমতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর আইনের পাশাপাশি এমন প্রাত্যহিক ও কৌশলী নজরদারি অন্যান্য উপজেলার জন্য উদাহরণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||