মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশে পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে । আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কেনায় পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও সংকট তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি ।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান দিকগুলো:
আতঙ্কজনক পরিস্থিতি: পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এটি অনভিপ্রেত এবং ৫০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এমন পরিস্থিতি দেখেননি ।
সরবরাহে ঘাটতি: ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না আসায় অনেক পাম্পে তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে, ফলে গ্রাহকরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না ।
মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে ।
ভয়ভীতি: আতঙ্ক থেকে অনেকে রাতভর পাম্পে ভিড় করছেন, এমনকি তেল না পেয়ে বাইক ঠেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে ।
সারা দেশে পেট্রোল পাম্পগুলোতে শত শত যানবাহন তেলের জন্য লাইন ধরে অপেক্ষা করছে। অনেকে রাত জেগে সিরিয়াল দিয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করেন। তার পরও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তেলের সংকট নেই। বাস্তবে দেশবাসী সরকারের কথার সঙ্গে পেট্রোল পাম্পের চিত্রের মিল পাচ্ছে না। এর ফলে একদিকে শত শত মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে। সেই সঙ্গে বিরক্ত হচ্ছে মানুষ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে তেলের জন্য বুকিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যাতে ভোক্তা নিকটস্থ পাম্পের আইডিতে বুকিং দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে তেল নিতে পারে। এর ফলে খুব সহজেই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
মাত্র দেড় মাসের নতুন সরকার। অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে স্বস্তি আছে। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে অনেক রক্ত ঝরেছে।
অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জাতীয়তাবাদী শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের প্রতি জনগণ আস্থা রেখেছে। দেশে যখন শান্তির সুবাতাস বইছে তখনই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনীতি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে।
অন্যান্য দেশ যেখানে ঐক্যবদ্ধভাবে সংকট মোকাবিলা করছে, সেখানে আমাদের দেশে মিলছে ঠিক উল্টো। নতুন সরকারকে চাপে ফেলতে ভিতরে ভিতরে তেল নিয়ে ভয়ানক ষড়যন্ত্র চলছে। যে কোনো মূল্যে এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে চলমান সংকটের উত্তরণ ঘটাতে হবে।
এজন্য তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তেলের বুকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। জরুরিভিত্তিতে একটি অ্যাপস তৈরি করতে হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কা এ জাতীয় পদ্ধতি চালু করেছে। এর বাইরে প্রথমে নিজ দলের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তেল মজুতদারির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে আরও কঠোর ও কঠিন হতে হবে।
এদিকে সারা দেশে বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও দলের কিছু সুবিধাভোগী নেতা-কর্মী তেলের অবৈধ মজুতের কাজে জড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের তুলনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কারণ যে কর্মী দল ও সরকারের জন্য সহায়ক নয়, তারা না থাকলে বরং দল উপকৃত হবে।
অবশ্য ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার পক্ষ থেকে কৃত্রিম জ্বালানি সংকট ঠেকাতে চিরুনি অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপনার এ নির্দেশ অবশ্যই সময়োপযোগী। এ নির্দেশ যেন সব পর্যায়ে যথাযথভাবে কার্যকর হয়, সেদিকেও নজরদারি বাড়াতে হবে।
দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সরকারের প্রতিনিধি। বতর্মান যে সংকট এটি কৃত্রিম। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এরপরও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে, এ তথ্যটি দেশবাসীর মধ্যে জোর প্রচারণা চালানো জরুরি। আতঙ্ক তৈরি না করে সবাইকে আশ্বস্ত করতে হবে। দেশবাসীকে বুঝাতে হবে যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে তা নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার।
দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন আসার পথে রয়েছে। সরকার প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। এছাড়া সেচ ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে ভাবনা থেকে দাম বাড়ানো হয়নি। কিছু অসাধু চক্রের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। এমনকি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের সামনে হাজার হাজার বাইক এবং দীর্ঘ মাইলের পর মাইল বিভিন্ন গাড়ির তেল নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ওদের আগ্রহ নিয়ে ধৈর্যের সাথে সময় ক্ষেপণ করে যে তেল নিয়া লাগছে তা বিশেষজ্ঞদের কে ভাবিয়ে তুলছে। এভাবে চলতে থাকলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ অনেক কিছু বন্ধ হয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হুরহুর করে বেড়ে যাবে। একটি সময় জনগণ থেকে সরকার এবং ব্যবসায়ীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে অতিসত্বর তেল পাম্প ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারপক্ষের বসে একটি সুরাহা করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||