ঝিনাইদহে শৈলকূপা পৌরসভার মালিপাড়া গ্রামে মানবিকতাকে নাড়া দেওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম হয়েছে। মিমহা (১৫)নামে এক শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় মৃত্যু পাঞ্জা সঙ্গে লড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সৎ-মায়ের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মিমহার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে নিয়মিত মারধর করা হয় এবং কখনো কখনো বাথরুমে আটকে রাখা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটির হাত, পা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন, কিছু স্থানে ক্ষত এতটাই গভীর যে সেখানে পোকা ধরেছে। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে।
মিমহার জন্মদাতা মা রুপা খাতুন জানান, ‘তার সাবেক স্বামী মাজেদুল হক চোকা তাকে তালাক দিয়ে একাধিক বিয়ে করেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় ছিল। বাবার কাছে নেওয়ার পর থেকেই সৎ-মা তাকে নির্যাতন শুরু করে। এখন সে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।’
নানির ভাষ্য, ‘আমার কাছ থেকে জোর করে মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকেই তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছে। আজ আমার নাতনির এই করুণ পরিণতি আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।’
পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনদের চোখে এখন শুধু অশ্রু আর ক্ষোভ। তারা বলছেন, একটি অসহায় প্রতিবন্ধী শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মানবিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয়রা অবিলম্বে মিমহার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং অভিযুক্ত সৎ মায়ের ভূমিকা তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||