শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ–১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের নথি যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক বছরে জাতীয় সংসদ এলাকা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কাজের মান, বিল অনুমোদন ও ঠিকাদারি বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রকল্পে বাস্তব অগ্রগতি ও কাগজে–কলমের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা গেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
ব্যয় সংক্রান্ত নথি যাচাই
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গত তিন অর্থবছরে বাস্তবায়িত কয়েকটি বড় প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত নথি, বিল ভাউচার ও দরপত্র প্রক্রিয়ার কাগজপত্র তলব করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর কাজের গুণগত মান এবং পরিশোধিত বিলের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, গণমাধ্যমে ওঠা অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পূর্ণাঙ্গ তদন্তে রূপ নিতে পারে।
দুদকের নজরে অভিযোগ
অভিযোগগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরেও এসেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পূর্বে জমা পড়া কিছু অভিযোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুদকের বিধি অনুযায়ী, অনুসন্ধানে প্রাথমিক প্রমাণ মিললে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তা নিষ্পত্তি করা হয়।
দীর্ঘ দায়িত্বকাল ও বদলির আভাস
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে–বাইরে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, একই বিভাগে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস বা বদলির সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
ঠিকাদারি নিয়ে প্রশ্ন
সংসদ ভবন এলাকা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে তুলনামূলকভাবে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পেয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তদন্ত ফলাফলের অপেক্ষা
মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন প্রাথমিক যাচাইয়ের পর্যায়ে। অভিযোগ কতটা সত্য, আর কতটা ভিত্তিহীন—তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি ইতিমধ্যে জোরালো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,
“আমি গত দুই বছর ধরে প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। এটি কোনো ওয়ার্কিং ডিভিশন নয়। এখান থেকে কোনো টেন্ডার আহ্বান করা হয় না এবং প্রকল্প বাস্তবায়নও হয় না। সুতরাং আমার বিরুদ্ধে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেগুলো অবান্তর।”
তিনি আরও জানান, তাঁর দায়িত্ব শুধুমাত্র প্রশাসনিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন বা দরপত্র প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||