গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের গাছা থানাধীন হিন্দু বাড়ির মোড়, শহীদ সিদ্দিক রোড, কাদির মাস্টারের মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে চরম অনিয়ম ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ৩৮ নং ওয়ার্ডের একাধিক পাইকারি ও খুচরা গ্যাস বিক্রেতা সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য বেসরকারি ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পাইকারি দোকানগুলো খুচরা দোকানদারদের কাছে ১,৮৫০ থেকে ২,০০০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। ফলে খুচরা দোকানদাররা বাধ্য হয়ে ২,০৫০, ২,১০০ এমনকি ২,২০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।
এ নিয়ে ছোট দোকানদার ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে। ক্রেতারা সরকারি নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ করে প্রতিবাদ করলে দোকানদাররা জানান, তারা যেভাবে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন, সেভাবেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। দোকানদারদের দাবি, মূল সমস্যা পাইকারি পর্যায়ে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
এ বিষয়ে একজন রনি নামের ব্যবসায়ীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি স্বীকার করেন, যমুনা ব্র্যান্ডের গ্যাস সিলিন্ডারের পাইকারি মূল্য ১,৮৫০ টাকা। এতে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১,৩০৬ টাকা, সেখানে খুচরা দোকানদাররা কত দামে বিক্রি করবেন?
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসন যদি পাইকারি ব্যবসায়ীদের দিকে কঠোর নজরদারি চালায়, তাহলে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়েছেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষই উপকৃত হবে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরবে।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||