ঢাকার দোহারে বাঁশ নাচান একটি ধামাইল ও ওরশের আগমনির বার্তা কথা বলে। এটা মূলত দোহার নবাবগঞ্জ কেরানীগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার দেখা যায়। এটা বছরে একবার হয়ে থাকে। মেলা আগমনের বার্তা নিয়ে আসে এটা। লম্বা লম্বা ৫ থেকে ৭ টি বা বাঁশ নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়।দোহারে এটাকে মাদার বাঁশ নাচান বলে থাকে। প্রতি বছর মাঘ মাসে দোহারের কার্তিকপুর সুন্দরিপাড়া বাস্তা ও নবাবগঞ্জের বাইমাহাটি সিদ্দাহ বাড়ি থেকে পীর ফকিড়রা এই বাঁশ নাচানের আয়োজন করে থাকেন। বাঁশ নিয়ে নাচার আগে বাঁশে তেলোই দেওয়া হয় ।এদিন বাঁশ পরিষ্কার করে তেল মেখে মসৃণ করা হয় যাতে হাত বা অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতি না হয়। বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশের বিভিন্ন অংশে শোভা পায় ফুল বা ফুলের পাপড়ির সাদৃশ্য এবং কাপড় দিয়ে মোড়ানো হয়। তবে অতীতে এ সব বাঁশের কারুকাজ করা হতো বিভিন্ন রঙের লম্বা কাপড় দিয়ে।এখনও করা হয়।
এর পরের দিন একেক জন একটি করে বাঁশ নিয়ে ঘুরে বেড়ায় গ্রামের বাড়ি বাড়ি। সাতটি বাঁশে সাত রঙের কাপড় পরিধান করে বাঁশ হাতে নিয়ে, বাদ্য যন্ত্রের তালে তালে চলে যায় এলাকার ও দেশব্যপী বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাচ প্রদর্শন। কেউ বাড়ি থেকে কিছু উপহার বা বকশিশ নিয়ে থাকেন সাথে শিড়নির জন্য বাড়ির লোকজন চাল আলু পেয়াজ দিয়ে থাকেন। এ ভাবে তারা বছরে একবার মাদার বাঁশ নাচের মাধ্যমে মেলার আগমনি ও ধামাইলের বার্তা দিয়ে থাকে।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||