ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন হতে যাওয়া গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতে দেশের বিভিন্ন জনবহুল জায়গাগুলোতে ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপন করে প্রচারণা শুরু করেছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার শহরে গাড়ি দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে এই প্রচারণা সীমাবদ্ধ রয়েছে শুধু জেলা শহরে। উপজেলা বা গ্রাম গঞ্জে প্রচার চালানো হচ্ছে না। এতে করে গণভোটের বিষয়ে জানার সুযোগ পাচ্ছেন না চা শ্রমিক ও প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ।
এদিকে 'দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে সাংবিধানিক গণভোটকে সামনে রেখে এরই মধ্যে জনসচেতনতা কার্যক্রম ও প্রচার শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে এই প্রচার শুধু সীমাবদ্ধ রয়েছে জেলা শহর পর্যন্ত। ফলে মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানের শ্রমিক ও গ্রামগঞ্জের সাধারণ ভোটারেরা গণভোট কী তা বুঝে উঠতে পারছেন না। তারা গণভোট কী ও কী বিষয়ে ভোট হচ্ছে তাও জানেন না। ফলে অনেকটা না বুঝেই এই ভোট দিতে হবে তাদের।মৌলভীবাজারের চা বাগানের অধিকাংশ নারী ভোটাররা জানান, আমরা জানি ফেব্রুয়ারিতে এমপি নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন উপলক্ষে অনেকেই আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন ভোট চেয়েছেন। এছাড়া আর কোনো নির্বাচন হবে কিনা তা জানি না। আমাদের এই ভোটের সম্পর্কে কেউ কিছু বলেননি। গণভোট সম্পর্কে প্রশ্ন করলে ভোটাররা জানান, আমরা তা জানি না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে মোট তিনবার বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। চতুর্থবারের মতো এবার জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে আরেকটি গণভোট হবে, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থাকবে।
গণভোটে সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্নির্মাণ, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা ও জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান বাস্তবায়িত হবে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকবে।
চা শ্রমিকরা বলেন, আমরা কখনও গণভোট দেইনি। এই সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে হ্যাঁ বা না ভোট হবে তা আমরা জানি না। আমাদের কেউ গণভোট দেওয়ার কথা বলেনি বা কীভাবে এই ভোট দেব তা কেউ জানায়নি।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||