আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬কে সামনে রেখে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্মানিত প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি। তাঁর উপস্থিতি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার এক সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে।
মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, জাতির প্রত্যাশিত অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংবিধান ও আইনের আলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি বলেন, নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, যেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী সবসময় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে দায়িত্ব পালনের সময় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং কার্যকর কো-অর্ডিনেশন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা যাতে সৃষ্টি না হয়—সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর এই দিকনির্দেশনা সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট কর্মপথনির্দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে একটি বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রেজেন্টেশনে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ ও সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামোর বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়। প্রেজেন্টেশন শেষে সেনাবাহিনী প্রধান চট্টগ্রামের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ, প্রস্তুতি ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর এই সন্তোষ প্রকাশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি ইতিবাচক স্বীকৃতি এবং আগামীর কাজের ক্ষেত্রে একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—
চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন,
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম, ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ মোঃ আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা,
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।
এছাড়াও সভায় তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করে—এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত সমন্বিত ও সর্বাঙ্গীণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই মতবিনিময় সভা চট্টগ্রাম থেকেই স্পষ্ট করে দিল—গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান একযোগে প্রস্তুত। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের দৃঢ়, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বে একটি অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা আরও দৃঢ় হলো।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||