টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে কৃষি জমিতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসন।
শুরু হয়েছে ইট পোড়ানোর মৌসুম।যে সকল ভাটায় ইট তৈরীতে ব্যবহার হচ্ছে তিন ফসলী কৃষি জমির উর্বর মাটি। ইটের ভাটায় স্থানীয় কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা অবাধে ৪ থেকে ৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এক জমিতে মাটি কাটায় নিচু হওয়ায় পাশের কৃষকদের বেকায়দায় ফেলে সেই মাটি বিক্রি করাতে বাধ্য করছে।
সরেজমিনে, উপজেলার ধোপাখালী’র মঠবাড়ী, হাজরাবাড়ী, যদুনাথপুরের বাড়ইপাড়া শগুনা, বানিয়াজানের কামারপাড়া ও শিরনকাজীসহ বিভিন্ন স্থানে অবাধে মাটি কেটে ড্রাাম ট্রাক যোগে নিয়ে যাচ্ছে ধনবাড়ীর বিভিন্ন ইটের ভাটায়। এতে করে বিভিন্ন গ্রামীন সড়কসহ পাঁকা রাস্তার চরম ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সচেতন মহল।
ধনবাড়ীর বানিয়াজানের বাসিন্ধা সোহেল রানা, স্বপন মিয়া, দুলাল হোসেন, ও যদুনাথপুরের আব্দুল বাতেন, আব্দুর রশিদ, কৃষক সোহরাব আলী ও ফজলুল হকসহ এলাকাবাসী জানান, স্থানয়ী বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা, কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটের ভাটায় বিক্রি করছে। এই মাটি কাটা বন্ধে উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) পৌরসভার সিংগাটা(চাতুটিয়া) এলাকায় তিন ফসলী জমিতে সরকারী আইন অমান্য করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালানা করেন ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন। এসময় মাটি ব্যবসায়ী স্থানীয় বাসিন্ধা হেলাল উদ্দিন কে নগদ দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সায়েম ইমরান। পরে, উপজেলার যদুনাথপুরের নেটামশারা (নতুন বাজার) এলাকায় খুঁটি ও সিমেন্টর চুলা তৈরীতে সড়কের উপর ইট চূর্ণ করার মেশিন ও ট্রাক রেখে কাজ করে জনসাধারণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে এমন ঘটনায় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েম ইমরান ঘটনাস্থলে অভিযানে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সায়েম ইমরান সাংবাদিকদের জানান, সরকারী আইন অমান্য করে ফসলী জমিতে ভেকু দিয়ে মাটি বিক্রি করার অপরাধে হেলাল উদ্দিন নামের এক মাটি ব্যবসায়ীকে সতর্কতামূলক দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এবং খুঁটি ও সিমেন্টর চুলা তৈরীতে সড়কের উপর ইট চূর্ণ করার মেশিন ও ট্রাক রেখে কাজ করে জনসাধারণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা তৈরী করার ঘটনায় অভিযানে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আবারোও সরকারী আইনঅনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে। সেই সাথে উপজেলার যে সকল এলাকায় কৃষি জমিতে মাটি কাটা হচ্ছে সেই সকল স্থানেও অভিযান ধারাবাহিক ব্যাপারে চলমান থাকিবে।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||