কিশোরগঞ্জে মসজিদের রড চুরি করে
জনতার ধাওয়ায় আত্মগোপনে কথিত সোর্স মিজান!
মোঃ সাইফুল্লাহ
কিশোরগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদের রড চুরি করে বিক্রি করে যুবলীগ নামধারী এবং ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী মিজানুর রহমান মিজান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে এমন কোনো অপকর্ম নাই যা সে করে নাই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি তথা এলাকার সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে টাকা পয়সা উপার্জন করাই ছিল তার পেশা। মূলত আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে যত প্রকার অবৈধ পন্থা রয়েছে তার সবকিছুই ব্যবহার করে বনে যান একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। এখন প্রশ্ন হলো – একাধিক ফৌজদারি মামলায় কারাবরণকারী কে এই মিজান শিকদার ? অনুসন্ধানে জানা যায়, মিজান কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ৮ নং মারিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির শিকদারের বড় ছেলে। গত ৪ঠা আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম কর্তৃক গত ১৬ ই অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলায় মিজান শিকদারকে গত ৩০ শে ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে "উবাই পার্ক", কিশোরগঞ্জ থেকে র্যাব -১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর থেকে বিতর্কিত সোর্স মিজানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের আমলনামা। বিভিন্ন সূত্রে ও জনস্বার্থে করা অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যুবলীগ নেতা মিজান শিকদার তার নিজ গ্রামবাসীর উপর জুলুম, নির্যাতন ও অত্যাচার করতো। বিভিন্ন জায়গায় সে নিজেকে ডিবি, পুলিশ ও র্যাব এর চেয়েও ক্ষমতাধর ব্যক্তি বলে জাহির করতো। র্যাব, ডিবি তথা পুলিশের গাড়িতে ঘুরে বেড়াতো এবং সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাই ছিল তার পেশা। মানুষ সবসময় মিজান শিকদার এর ভয়ে দিন যাপন করতো। মিজান তৈরি করেছিল বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। মিজান জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় তাঁর অপকর্ম শুরু করে দেয়। যার ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদের (নির্মাণাধীন) চুরিকৃত রড গত ২৮ শে অক্টোবর মঙ্গলবার গোপনে বিক্রি করে ভ্যানে তুলে দেওয়ার সময় সাধারণ জনগণের কাছে চোরাই রডসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে মিজান শিকদার। তখন ভ্যানে থাকা লোক স্বীকার করে বলেন যে, এগুলো মসজিদের রড কথিত সোর্স ও যুবলীগ নেতা মিজান শিকদার বিক্রি করেছে। তারপরই, ভ্যানসহ চোরাই রড জব্দ করে উপস্থিত জনতা। সাধারণ জনতার হস্তক্ষেপে মসজিদের চোরাই রড উদ্ধার হওয়ার পর উত্তেজিত জনতার তোপের মুখে পড়ে চোর মিজান শিকদার এবং অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যায় যা ভিডিও ফুটেজে দৃশ্যমান। এমনই দুইটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে এই প্রতিনিধির হাতে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যক্ষদর্শী ও উপ-ঠিকাদার আঞ্জু মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার (০১৯৪৮০১৩২৪৫), আরেক উপ-ঠিকাদার আবু বাক্কারের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার (০১৯১৬৩৩০৬৪৮), কিশোরগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদের ম্যানেজার অরুণ সরকার বাবুর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার (০১৭২৯৭১০৩৩১) ছাড়াও সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে (০১৯১৬৮৮৭০৫৬) কথা বলে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে, মিজানের রড চুরির ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। তবে, ম্যানেজার অরুণ বাবু বলতে চাচ্ছেন যে, ৫ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি মেম্বার তানভীর আহমেদ ওরফে উজ্জ্বল বিষয়টা মিমাংসা করার কথা বলেছেন। এই জন্য তিনি থানায় অভিযোগ দেননি। তবে, ম্যানেজারের কথায় বোঝা যায় যে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে ! এছাড়াও, মিজানের বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে দৈনিক সংবাদ সারাবেলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে । এর আগে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় মিজান শিকদার গ্রেফতার হয় যা দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার অনলাইনে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়। তাছাড়াও, মিজানের নানা ফৌজদারি অপরাধের বিরুদ্ধে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে দৈনিক বাংলাদেশ কন্ঠ পত্রিকায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এখানেই শেষ নয়, মিজান শিকদার এর সহোদর ছোট ভাই মকবুল হোসেন বিদ্যুৎ চুরির মামলায় (নং- ৮০৬/২০২৩) জরিমানা দিয়ে মামলা থেকে খালাস পায়। কিশোরগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদের রড চুরি করে সাধারণ জনগণের ধাওয়া খেয়ে মিজান শিকদার পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর একটাই দাবি, সন্ত্রাসী ও রড চোর মিজান শিকদারকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায়, সমাজে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাবে।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||