দিনাজপুর শহরের পুলহাট থেকে খানপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে গড়ে ওঠা শত শত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও একাধিক নোটিশ জারির পর রবিবার (২ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে অভিযান চলে পুলহাট হাটের রূপম মোড় এলাকা জুড়ে।
সওজ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। অভিযানে ব্যবহৃত হয় ভারী যন্ত্রপাতি — বিশেষ করে ভেকু (এক্সক্যাভেটর) ও ট্রাক। এসব যন্ত্রের সহায়তায় মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় রাস্তার পাশের পাকা, আধাপাকা দোকান, বসতবাড়ি, টিনের ঘর ও গুদামঘরসহ অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা।
সওজ বিভাগ জানায়, ১৯৪২ সালে অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমির ওপর দখল করে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্থাপনাগুলো বারবার নোটিশ ও মাইকিংয়ের পরও অপসারণ করা হয়নি। জনস্বার্থে ও রাস্তা প্রশস্তকরণের লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে কোনো ধরনের বাধা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভেকুর বাল্কহাত ঘুরতেই মুহূর্তে ভেঙে পড়ে দোকানের দেওয়াল, ভাঙে টিনের চালা ও ইটের দেয়াল।
কিছু স্থানে মালিকরা আগে থেকেই দোকানের মালামাল সরিয়ে নেন, কেউ কেউ কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের ক্ষোভ ও অসহায়ত্বের কথা জানান। তবে প্রশাসন দৃঢ় অবস্থান নেয়— “সরকারি জমিতে কোনো স্থাপনা থাকবে না।”
দখলদারদের অনেকে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরান।
এর আগে দিনাজপুর সওজের পক্ষ থেকে ব্যাপক মাইকিং ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে সওজ কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে সরকারি দলবল নিয়ে অভিযান চালানো হবে।
ফলে অনেকে নিজ উদ্যোগে দোকান ও বাড়িঘর খুলে সরিয়ে নেয়। তবে যারা তা করেনি, তাদের অবৈধ স্থাপনা অভিযান শুরু হতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সরু হয়ে পড়েছিল। দোকান, গ্যারেজ, কাঠের গুদাম আর বসতবাড়ির দখলে চলাচল ছিল দুর্বিষহ। এখন দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে।”
তাদের মতে, এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে যানজট অনেকটা কমে যাবে এবং সড়কটি হবে প্রশস্ত, নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী।
সওজ কর্মকর্তার বক্তব্য
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সওজের এক কর্মকর্তা বলেন,“এটি নিয়মিত দখলমুক্ত অভিযান। সরকারি জমি উদ্ধারে কোনো আপস করা হবে না। মাইকিং ও পেপার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও যারা স্থাপনা সরায়নি, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
সওজ সূত্রে জানা গেছে, পুলহাট থেকে খানপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যেমন গোদাগাড়ী, কলেজ মোড় থেকে সদর উপজেলা পর্যন্ত এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন “এখন যদি সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়, তাহলে শহরের যানজট ও জলাবদ্ধতা দুটোই অনেকাংশে কমে যাবে।”
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||