বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গতকাল, ১৭ অক্টোবর, চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড)-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে রপ্তানিযোগ্য বিপুল পরিমাণ পণ্য পুড়ে যায়। এই ইপিজেড থেকেই দেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রসেস করা হয়। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনা দেশের রপ্তানি আয় মারাত্মকভাবে হ্রাস করবে এবং বৈদেশিক রিজার্ভে ঘাটতি সৃষ্টি করবে।
অন্যদিকে, ১৮ অক্টোবর, দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই আগুনে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্য পুড়ে যায়, যা দেশের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৬টি ফায়ার ফাইটিং ইউনিট কাজ করে এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী সহায়তা প্রদান করে। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৬ মিনিটে প্রথম ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করে, তবে আগুনের কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল ও অন্যান্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুটি অগ্নিকাণ্ডের ফলে দেশের অর্থনীতিতে একসঙ্গে দুই দিক থেকে আঘাত এসেছে—একদিকে রপ্তানি আয় কমেছে, অন্যদিকে আমদানিতে ব্যয়ের অপচয় হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটলো, যখন দেশের প্রয়োজন ছিল জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন। অথচ রাজনৈতিক বিভাজন ও নির্বাচনী উত্তেজনা জাতীয় মনোযোগ বিভক্ত করছে, যা এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নির্ধারণ, রপ্তানি ও আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন। নইলে এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব থেকে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||