গত ৭ আগষ্ট বৃহষ্পতিবার ২০২৫ইং তারিখ সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ এর গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মো: আসাদুজ্জামান তুহিনকে স্থানীয় চাঁদাবাজ ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় ধারালো চাপাতি দ্বারা হাজারো জনতার মাঝে প্রকাশ্যে কুপিয়ে এবং জবাই করে হত্যা করে। এই হত্যার প্রতিবাদে এবং বিচারের জন্য সারাদেশব্যাপী মানববন্ধন করেছেন সকল প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া এবং সকল প্রকার অনলাইন নিউজ, ইউটিউব ও ফেসবুক কন্টেইন ক্রিয়েটররা।
প্রতিবাদকারীদের মুখের ভাষা ছিল একটাই সাংবাদিক মো: আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার সঠিক বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে। এই হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে শুধু সংবাদকর্মীরাই যে অংশ গ্রহন করেছেন তা নয়। সারাদেশের মানববন্ধনকালে সাংবাদকিদের পাশে ডাক্তার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ছাত্রসমাজসহ সাধারণ জনগণ সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। কিন্তু মো: আসাদুজ্জামান তুহিনকে হত্যার ৬দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে আজও কেন মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম প্রকাশ করতে পারছেন না কেন? যদিও মিডিয়ার চাপে পরে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে সনাক্ত করার পর ৭জনকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করার পর প্রেস ব্রিফ্রিং করেছেন জিএমপি কমিশনার ড.নাজমুল করিম খান। উক্ত ৭জন আসামীকে গ্রেফতার করে দেখানোর বাহবা অর্জনের পুরস্কারও প্রদান করেছেন জিএমপি কমশিনার।
নিহত সাংবাদিক মো: আসাদুজ্জান তুহিনের পরিবার এবং মিডিয়া মহলের নেতৃবৃন্দরা কিন্তু অধির আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন কখন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের পর্দার আড়াল থেকে জনসম্মুখে উপস্থিত করার জন্য। কিন্তু প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছে সাধারণ জনগন ও সংবাদ পত্র কর্তৃপক্ষ এবং সাংবাদিক মহল। নিহত সাংবাদিক মো: আসাদুজ্জামান তুহিনকে হত্যার মধ্যদিয়ে সংবাদকর্মীদের মাঝে আতংক সৃষ্টির একটা বিশেষ কোন স্বার্থ রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মিডিয়া মহলে। যার বাস্তব উদাহরন দেওয়া যায় সারা দেশে মানববন্ধনকারীদের বক্তব্যের ভাষা থেকে। তুহিন হত্যাকান্ডের পিছনে কার কার কালোহাত রয়েছে তা জানতে চায় জাতি। হয়তোবা কোন এক সময় এই জঘন্য হত্যাকান্ডের বিচার হবে কিন্তু আমরা কখনোই একবারও কেউ কি ভেবেছি যে, তার পরিবার কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা কখনোই এই ক্ষতির একবিন্দুও পূরন করতে পারবো না। তার কারন যার সন্তান হারায় সেই জানে সন্তান হারানোর বেদনা, যার স্বামী হারায় সেই জানে সংসার চালানোর কষ্ট।
আপনজন হারানোর ব্যাথা অন্যরা কিছুটা অনুভব করতে পারে পুরোটা নয়। তাই দেশ ও জাতির নিকট বিশেষ অনুরোধ করব যেন কিছুটা মানবিক ও সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য। নিহত তুহিনের ঘরে স্ত্রী ও দুটি সন্তান রয়েছে। সহকর্মী বা বন্ধু হিসেবে যদি আমরা তার অসহায় পরিবারে পাশে দাঁড়াতে পারি তাহলে হয়তো জাতির নিকট একটু হলেও সহানুভুতির নমুনা দেখাতে পারবো। তাই বলছি প্রিয় সহযোদ্ধাবৃন্দ শুধু তুহিন নয় ইতিপূর্বে যে সেকল সহকর্মী হারিয়েছি অথবা আগামীতে যদি কোন ভুলের কারনে কাউকে এই মহান পেশায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন হারাতে হয় তাহলে যেন আমরা একে অপরের পাশে শক্তিশালী সহযোদ্ধা হিসেব পাশে দাঁড়াতে পারি তার জন্য আমাদের সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আর আমাদের এই একত্র হওয়ার জন্য একমাত্র পথ সারা দেশের যত প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠন রয়েছে সে সকল সংগঠনের প্রধানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবেই আমরা যেকোন সন্ত্রাসী মোকাবেলায় সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। আসুন আমরা হারিয়ে যাওয়া বন্ধু তুহিনের এই অনাকাঙ্খিত চলে যাওয়া থেকে শিক্ষা নেয়।
পরিশেষে বলতে চাই, মিডিয়াতে আমরা যারা কাজ করি কখনোই নিজেকে ছোট ও ভীতু মনে করবো না। একে অপরের সাথে হাতে হাত রেখে আগামীর পথ চলার অঙ্গীকার নিয়ে নতুন করে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সততার সহিত অর্পিত দায়িত্ব পালন করি। আর এই মাহান দায়িত্ব পালন করতে অবশ্যই প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক মহলের সহযোগিতা, সামাজিক সংগঠনের ঐক্যবদ্ধতা একান্তভাবে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি এবং আমরা যদি স্বনির্ভর দেশ ও জাতি তৈরি করতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের সকলকেই একই পথে চলতে হবে বলে আমি মনে করি।
| | প্রকাশক ও সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ||